যেভাবে নিজের শিশু সন্তানকে নির্দয়ভাবে হত্যা করলেন মা

  বেড়াতে গিয়ে হোটেল রুমে নিজের চার বছরের সন্তানকে হত্যা করেছেন এক নারী। এরপর করেছেন আত্মহত্যার চেষ্টা। পালানোর চেষ্টাও করেছেন, আবার ধরা পড়ে দায় এড়াতে দিয়েছেন নানা অজুহাত, অভিযোগ তুলেছেন স্বামীর বিরুদ্ধেও। তবে এসবের ভিড়ে অজানা ছিল কীভাবে তিনি নিজ সন্তানকে হত্যা করেছেন, সেই তথ্য।


ছেলের সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্টার্টআপ ‘মাইন্ডফুল এআই ল্যাব’র সিইও সূচনা শেঠ। ফাইল ছবি (সংগৃহীত)


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিজের ছেলের মরদেহ-ভর্তি ব্যাগসহ সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সূচনা শেঠ নামে ওই নারীকে। তিনি বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্টার্টআপ ‘মাইন্ডফুল এআই ল্যাব’ এর সিইও। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়ায় যে হোটেল রুমে সূচনা তার সন্তানকে হত্যা করেছে সেখানে একটি কাশির সিরাপের খালি বোতল খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ, হত্যার আগে নিজের ছেলেকে ওই ওষুধের ভারি ডোজ দিয়েছিলেন সূচনা এবং এটি পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 



পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্তে জানা গেছে শিশুটিকে কাপড় বা বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে


একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নারী যে সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট রুমে ছিলেন সেখানে পরিদর্শনের সময় তারা কাশির সিরাপের দুটি খালি বোতল (একটি বড় এবং আরেকটি ছোট) পেয়েছেন।


 তিনি বলেন, 

মৃতদেহের ময়নাতদন্তে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে এবং সেখানে ধস্তাধস্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

ওই 

কর্মকর্তা আরও বলেন, 


সূচনা তার শিশুটিকে হত্যা করার আগে তাকে কাশির সিরাপের ভারি ডোজ দিয়েছিলেন কি না, আমরা তার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছি। তবে মনে হচ্ছে এটি পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 

এদিকে, মর্মান্তিক এ ঘটনার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে হত্যার পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্বামী ভেঙ্কট রমনের সঙ্গে সূচনার সম্পর্ক বিচ্ছেদের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার নিধিন ভালসান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তাদের (সূচনা- ভেঙ্কট দম্পতির) বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 


জিজ্ঞাসাবাদের সময় সূচনা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল এবং আদালতের আদেশে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। 


পুলিশ কর্মকর্তা নিধিন বলেন, ‘ঘটনার সময় সূচনার স্বামী ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন। আমরা তাকে হত্যার বিষয়ে জানিয়েছি এবং

 তাকে ভারতে ফিরে আসতে বলেছি।








Post a Comment

0 Comments

Close Menu